অনুচ্ছেদঃ গ্রাম্য মেলা

play icon Listen to this article

অনুচ্ছেদ লিখন

গ্রাম্য মেলা


গ্রাম্য মেলা বাংলাদেশের গ্রামীণ ঐতিহ্য। আমাদের দেশে নানা উৎসব উপলক্ষে গ্রাম্য মেলার প্রচলন রয়েছে। বহুকাল ধরে এ দেশের মানুষ মেলার মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত পণ্য ও তৈরি জিনিস বেচা-কেনা করে আসছে। এছাড়া মেলায় আনন্দ উপভােগেরও সুযােগ রয়েছে। এতে সার্কাস, যাত্রাপালা, সং, নৃত্যগীত, নাগরদোলা, লটারি, ঘােড়দৌড়, লাঠিখেলা ইত্যাদির আয়ােজন থাকে।

শিশু-কিশােরসহ সব বয়সী মানুষই এগুলাে উপভােগ করে আনন্দ পায়। সংসারের নিত্যপ্রয়ােজনীয় জিনিসের পাশাপাশি নানা রকম খেলনা ও পুতুল, মিষ্টিসহ নানা খাবারও পাওয়া যায় মেলায়। গ্রামের মেয়েরা বাহারি কাচের চুড়ি ও প্রসাধন সামগ্রী কিনতে মেলায় আসে। সাধারণত চৈত্রসংক্রান্তি, অষ্টমী, গাজন, শিবরাত্রি, মহররম, ঈদ, বুদ্ধ পূর্ণিমা, মাঘী পূর্ণিমা, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি উপলক্ষে গ্রাম্য মেলার আয়ােজন হয়। এছাড়াও পীর-সন্ন্যাসীর নামে, নৌকাবাইচ, রথযাত্রা, দুর্গা বা কালীপূজা, নানা লৌকিক উৎসব উপলক্ষে ছােট-বড় মেলা বসে।

নদীর পাড়ে, মাঠে, রাস্তার উপর বা পাশে, মন্দির বা মাজারের সামনে, হাট-বাজারের স্থানে এসব মেলা হয়। দূর-দূরান্ত থেকে লােকজন এসে পণ্য সাজিয়ে মেলাকে আকর্ষণীয় করে তােলে। মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের মধ্যে আলাপ পরিচয়, বন্ধুত্ব, এমনকি আত্মীয়তাও গড়ে ওঠে। একসঙ্গে গল্পগুজব, খাওয়া-দাওয়া, অনুষ্ঠান উপভােগ করার মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববন্ধন দৃঢ় হয়। ধর্ম-বর্ণ-গােষ্ঠী নির্বিশেষে মানুষে মানুষে মিলনের ক্ষেত্রে গ্রাম্য মেলার জুড়ি নেই।

এসব কারণেই গ্রাম্য মেলার ঐতিহ্য ধরে রাখা অপরিহার্য। পুরনাে লােকমেলাগুলােকে পুনরুজ্জীবিত করা ও বিভিন্ন উপলক্ষে নতুন নতুন মেলার আয়ােজন করা হলে গ্রামীণ জীবন যেমন উজ্জীবিত হবে, তেমনি উপকৃতও হবে। গ্রাম্য মেলা মানুষকে ক্ষুদ্র থেকে বৃহতের, সংকীর্ণতা থেকে উদারতার চেতনায় অভিষিক্ত করে।

What’s your Reaction?
+1
14
+1
17
+1
7
+1
6
+1
3
+1
3

1 thought on “অনুচ্ছেদঃ গ্রাম্য মেলা”

আপনার মতামত জানানঃ

%d bloggers like this: