উত্তম নিশ্চিন্তে চলে অধমের সাথে

play icon Listen to this article

উত্তম নিশ্চিন্তে চলে অধমের সাথে তিনি মধ্যম যিনি চলেন তফাতে

ভাব-সম্প্রসারণ: উত্তম চরিত্রের অধিকারীর মনােবল এত দৃঢ় যে সে অধমের সাথে চলতে দ্বিধা করে না, ভয় পায় না। কিন্তু যার মনােবল ক্ষীণ সে ছিটকে পড়ার ভয়ে অধমের কাছ থেকে দূরে থাকে। উত্তম আর অধমের মধ্যে যে পার্থক্য ও তফাৎ রয়েছে, মধ্যমের সাথে সে তফাৎ ও পার্থক্য অনেক কম। কেননা, উত্তম ও অধমের মধ্যস্থলেই মধ্যমের স্থান।

পথচলা ও জীবনাচরণের ক্ষেত্রেও উত্তম, মধ্যম ও অধমের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। এদের মানসিকতাও ভিন্ন। যে উত্তম বা শ্রেষ্ঠ, অধমের সঙ্গে পথ চলতে তার কোনাে বাধা নেই। কারণ, তার কোনাে সংশয় নেই এবং হীনম্মন্যতা নেই। সে নিজের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত। তার ভেতরটা যেমন স্পষ্ট, বাইরেও তেমনি স্পষ্ট। অধমের সাথে পথ চলতে উত্তমের মনে কোনাে সংশয় থাকে না কারণ, অধমের সাথে তার পার্থক্য ও দূরত্ব খুবই স্পষ্ট। তার পদস্থলনের সম্ভাবনাও সেখানে থাকে না। কিন্তু সমস্যা হলাে মধ্যমের।

কারণ, সে যেমন উত্তমের নিকটবর্তী, তেমনি নিকটবর্তী অধমের। সে উত্তম হতে চায়, কিন্তু উত্তম হওয়ার সাধ্য তার নেই। আবার অধম হতে সে মােটেও চায় না। আসলে এই মধ্যম শ্রেণীর মানুষের দোদুল্যমানতা ও হীনতাবােধ বেশি। কারণ, এরা ইচ্ছে করলেই উত্তম হতে পারে না; কিন্তু পদস্খলন হলেই সে অধমের দলে ভিড়ে যাবে। যে কারণে মধ্যম স্তরের মানুষ নিজেকে আলাদা করে রাখে। মধ্যমের সুবিধাবাদও বেশি।

সামাজিক স্তরে এদের সংকট ও সমস্যাও অনেক। এদের হারানাের ভয় থাকে, উত্তম বা অধমের সে ভয় নেই। আমাদের সমাজে বর্তমানে উত্তম চরিত্রের মানুষের সংখ্যা অতি নগণ্য। তাই অধমের সংখ্যাই বেড়ে চলেছে। কারণ উত্তমের সাহচর্য পায় না বলে অধমের উত্তরণ ঘটে না। অন্যদিকে যারা মধ্যম তারা নিজেদের আড়ালে রেখে এক সময় চলে যায় অধমের দলে।

অন্য একটি সংস্করন পড়ুন

What’s your Reaction?
+1
1
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

আপনার মতামত জানানঃ