প্রার্থনা বেশ কিছু নয়ঃ HSC বাংলা ১ম পত্র

play icon Listen to this article

প্রার্থনা বেশ কিছু নয়

আমার ঘামের দাম।

তা’য়ো দেবে নাকি?

তবে শোন, ধান কাটা শেষ

কাস্তের অবকাশ।

সুতরাং সময় কাটাতে

তোমার কণ্ঠনালী

এবার সে ছোঁবে।

ক. ‘মার্জার’ অর্থ কী?

খ. ‘সমাজের ধনবৃদ্ধির অর্থ ধনীর ধনবৃদ্ধি।‘ ব্যাখ্যা করো

গ. উদ্দীপকে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে বর্ণিত বঞ্ছনার কথা কতটা প্রতিফলিত হয়েছে আলোচনা করো।

ঘ. ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে বর্ণিত অধিকারবোধের সশস্ত্র প্রকাশ ঘটেছে উদ্দীপকে- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

ক. ‘মার্জার’ অর্থ কী?

উত্তরঃ ‘মার্জার’ অর্থ- বিড়াল।

খ. ‘সমাজের ধনবৃদ্ধির অর্থ ধনীর ধনবৃদ্ধি।‘ ব্যাখ্যা করো

উত্তরঃ সমাজের ধনবৃদ্ধি সম্পর্কে বিড়ালের মত প্রকাশ পেয়েছে আলোচ্য উত্তিটিতে।

কমলাকান্তের মতে, যার যত ক্ষমতা, সে তত ধন সঞ্চয় করতে না পারলে কিংবা সঞ্জয় করে চোরের জ্বালায় নির্বিয়ে ভোগ না করতে পারলে কেউ ধন সঞ্চয় করবে না। তাতে সমাজের ধনবৃদ্ধি হবে না। কিন্তু সমাজের ধনবৃদ্ধি সম্পর্কে বিড়ালের মত ভিন্ন। তার মতে, সমাজের ধনবৃদ্ধি মূলত ধনীর ধনবৃদ্ধি। কারণ তাতে দরিদ্রদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না। প্রশ্নোক্ত উত্তিটিতে বিড়ালের স্বগতোক্তিতে লেখক সমাজের ধনবৃদ্ধি সম্পর্কিত আত্মোপলব্ধি তুলে ধরেছেন।

গ. উদ্দীপকে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে বর্ণিত বঞ্ছনার কথা কতটা প্রতিফলিত হয়েছে আলোচনা করো।

উত্তরঃ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বিড়াল’ প্রবন্ধের সিংহভাগ জুড়েই বর্ণিত হয়েছে দরিদ্রের বঞ্ছনার কথা।

এ রচনায় বিড়ালের কণ্ঠে পৃথিবীর সকল বঞ্ছিত, নিষ্পেষিত, দলিতের ক্ষোভ-প্রতিবাদ-মর্মবেদনা যুক্তিগ্রাহ্যরুপে উচ্চারিত হয়েছে। তার মতে, ধনীরা পাঁচশ জনের আহার একা সংগ্রহ করায় এবং তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদ বন্টন করে না দেওয়ায় দরিদ্ররা চুরি করতে বাধ্য হয়। এক্ষেত্রে দোষ চোরের নয়, দোষ কৃপণ ধনীর। এছাড়া বিড়াল তার শারীরিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে যা বলেছে তাতে দরিদ্রের বঞ্ছনার চিত্র সম্যকভাবে উন্মোচিত হয়।

উদ্দীপকে সংক্ষিপ্ত পরিসরে এ বঞ্চনার দিকটি উপস্থাপিত হয়েছে। উদ্দীপকে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার চেতনা প্রকাশ পেয়েছে। যেখানে বঞ্চিত মানুষের দাবি বেশি কিছু নয়, শুধু তার শ্রমের ন্যায্য মূল্য। কেননা শ্রমজীবী মানুষের শ্রমে ও ঘামে সভ্যতার চাকা গতিশীল হলেও তারা সে শ্রমের মূল্য পায় না। এই সংক্ষিপ্ত কথনে আমরা বুঝতে পারি, সমাজে দরিদ্ররা ধনীদের কাছ থেকে কোনো সাহায্য তো পায়ই না, এমনকি তাদের শ্রমের মূল্য পর্যন্ত ধনীরা দিতে চায় না।

অন্যদিকে ‘বিড়াল’ রচনায় ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য তুলে ধরার পাশাপাশি এরুপ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। যেমনটি প্রকাশ পেয়েছে উদ্দীপকেও। অর্থাৎ ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে দরিদ্রের বঞ্ছনার যে চিত্র রয়েছে তার ইঙ্গিতপূর্ণ উল্লেখ আছে উদ্দীপকে।

 ঘ. ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে বর্ণিত অধিকারবোধের সশস্ত্র প্রকাশ ঘটেছে উদ্দীপকে- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

উত্তরঃ ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে বিড়ালের ‘সোশিয়ালিস্টিক’ মনোভাবের মধ্য দিয়ে দরিদ্রের অধিকারবোধ প্রকাশ পেয়েছে, যার সশস্ত্র প্রকাশ আমরা উদ্দীপকে দেখতে পাই।

সাম্যবাদবিমুখ, ইংরেজশাসিত ভারতবর্ষে বঙ্কিমচন্দ্র তার ‘বিড়াল’ রচনায় একটি বিড়ালের মুখ দিয়ে শোষক-শোষিত, ধনী-দরিদ্র, সাধু-চোরের বৈষম্য ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন। সেখানে বিড়াল পৃথিবীর সকল বঞ্চিত, নিষ্পেষিত, দলিতের ক্ষোভ-প্রতিবাদ-মর্মবেদনার ভাষ্যকার ।

 উদ্দীপকে বিড়ালের উচ্চকিত অধিকারবোধের সশস্ত্র প্রকাশ দেখি আমরা। উদ্দীপকের প্রথমেই আছে কীভাবে ধনী দরিদ্রকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্ছিত করছে। কীভাবে দরিদ্রের প্রার্থিত শ্রমের দামও দেওয়া হচ্ছেত না তাদের। আর তাদের দীর্ঘ বঞ্ছনা থেকেই ক্ষুব্ধ কৃষক প্রকাশ করছে তার সশস্ত্র অধিকারবোধ। যে কাস্তে শ্রমজীবী অর্থ উপার্জনের উপায়, শ্রমজীবী কৃষক তার পারিশ্রমিক থেকে বপ্তিত হলে সেই কান্তেকেই অস্ত্রে পরিণত করবে। শোষকের কণ্ঠনালির রক্ত পান করে সেই কাস্তে দরিদ্রের অধিকার আদায় করবে।

‘বিড়াল’ রচনা এবং উদ্দীপকে সমাজের অবহেলিত, লাঞ্ছিত, সুবিধা বঞ্ছিত দরিদ্র মানুষের অধিকার সচেতনতা প্রকাশ পেয়েছে। বিড়ালের মতে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধন থাকতেও ধনীরা যে গরিবের দিকে মুখ তুলে তাকায় না- তাতেই সমাজে চুরি, রাহাজানিসহ অন্যান্য অরাজকতা ঘটে।

আর এজন্যে দরিদ্রের চেয়ে বেশি দায়ী কৃপণ ধনী। বিড়ালের ভাষ্য, ‘অনাহারে মরিয়া যাইবার জন্য এ পৃথিবীতে কেহ আইসে নাই।‘  ‘বিড়াল’ রচনায় বিড়ালের সোশিয়ালিস্টিক কথাবার্তায় যে অধিকার সচেতনতার কথা ব্যক্ত হয়েছে উদ্দীপকে সে অধিকারবোধেরই সশস্ত্র প্রকাশ ঘটেছে। সেদি বিবেচনায় ‘বিড়াল’ রচনা ও উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

What’s your Reaction?
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

আপনার মতামত জানানঃ

সাবস্ক্রাইব করুন...    OK No thanks